পোল্ট্রি খাতে নতুন দিগন্ত: ১২০ সপ্তাহে ৬০০ ডিম উৎপাদনের যৌথ উদ্যোগ

আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক খামার ব্যবস্থাপনা, সঠিক পুষ্টি এবং কঠোর বায়োসিকিউরিটি নিশ্চিত করতে পারলে একটি লেয়ার মুরগি থেকে ১২০ সপ্তাহে ৬০০টি ডিম উৎপাদন করা সম্ভব। সম্প্রতি রাজধানীর রেডিসন ব্লুতে নাহার এগ্রো এবং লোহম্যান ব্রিডার্স এর আয়োজনে ১২০ সপ্তাহে ৬০০ ডিম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা শীর্ষক এক টেকনিক্যাল সেমিনারে বক্তারা এসব তথ্য জানান।

নাহার এগ্রোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ রকিবুর রহমান এর সভাপতিত্বে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মানীয় ফেলো প্রফেসর মুস্তাফিজুর রহমান। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) মহাপরিচালক মোঃ শাহজামান খান এবং ইন্টার এগ্রো বিডি লিঃ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এ. কে. এম. খসরুজ্জামান।

সেমিনারে ১২০ সপ্তাহে ৬০০ ডিম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে একটি টেকনিক্যাল প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন লোহম্যান ব্রিডার্সের গ্লোবাল টেকনিক্যাল সার্ভিস থেকে মার্ক পল চার্লস অ্যালেন। বাণিজ্যিক মুরগির ডিম পাড়ার সময়সীমা বৃদ্ধি করে খামারিরা ফ্লোক প্রতিস্থাপনের উপরি খরচ এবং উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারবেন, যা জাতীয়ভাবে ডিমের সরবরাহ স্থিতিশীল করতে সহায়ক হবে বলে তিনি জানান।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক খামার ব্যবস্থাপনা, সঠিক পুষ্টি, কার্যকর বায়োসিকিউরিটি এবং সময়মতো রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে পারলে একটি লেয়ার মুরগি থেকে ১২০ সপ্তাহে ৬০০টি ডিম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব।

সেমিনারে মুরগির সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, জৈব নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সময়মতো সঠিক ভ্যাকসিন প্রয়োগের আধুনিক কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। খামারিদের উৎপাদন খরচ কমিয়ে লাভজনক ও টেকসই খামার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন বিশেষজ্ঞরা।

সেমিনারে নাহার এগ্রোর পরিচালক তানজিদ জাওয়াদ রহমান বলেন, নাহার এগ্রো দীর্ঘদিন ধরে খামারিদের মানসম্মত বাচ্চা, উন্নতমানের ফিড ও প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন সরবরাহ করে আসছে। ভবিষ্যতে খামারিদের সুবিধার্থে আরও দ্রুত ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিতে মুরগির ঠোঁট কাটার সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ ছাড়া খামারিদের উৎপাদন খরচ কমিয়ে কিভাবে একটি লাভজনক, সাশ্রয়ী ও টেকসই খামার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়ে ব্যবহারিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন আমন্ত্রিত বিশেষজ্ঞরা।

উক্ত অনুষ্ঠানে সেক্টর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত অতিথি ও বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।