ঢাকায় দুই দিনব্যাপী পোল্ট্রি অ্যান্ড সয়া ফুড ফেস্ট শুরু

বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) ও ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিল (ইউএসএসইসি) এর যৌথ উদ্যোগে শুরু হল দুই দিনব্যাপী পোল্ট্রি অ্যান্ড সয়া ফুড ফেস্ট ২০২৫।

আজ ২৬ আগস্ট ২০২৫, রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ওয়াপসা-বিবি’র জেনারেল সেক্রেটারি ডা. বিপ্লব কুমার প্রামাণিক এর সঞ্চালনায় এই পোল্ট্রি অ্যান্ড সয়া ফুড ফেস্ট শুরু হয়েছে। উৎসবের উদ্বোধন করেন বিপিআইসিসি সভাপতি জনাব শামসুল আরেফিন খালেদ।

উদ্বোধনী বক্তব্যে শামসুল আরেফীন খালেদ বলেন, “বাংলাদেশ আজকে যে জায়গায় এসেছে, এখান থেকে সামনে এগোতে হলে প্রোটিনের কোনো বিকল্প নেই। একটি দেশ এক স্তর থেকে আরেক স্তরে ওঠে মানবসম্পদের উপর ভিত্তি করে। যেসব দেশের মানুষ যত বেশি দক্ষ, তাদের মানবসম্পদ তত শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান। কিন্তু প্রোটিন ছাড়া কোনো মানুষ শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান হতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের খাদ্য তালিকায় একসময় ভাত-ডালের উপর নির্ভরশীল ছিল। ভাত-ডালে কিছু প্রোটিন থাকলেও তা তেমন কাজে লাগে না। আমাদের প্রয়োজন প্রাণিজ উৎস থেকে প্রোটিন এবং তার পাশাপাশি সয়াবিনের মতো উদ্ভিজ্জ উৎস যা অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো অ্যাসিডের যোগান দেয়। প্রাণিজ প্রোটিনের মধ্যে ডিম হচ্ছে সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও সাশ্রয়ী প্রোটিনের উৎস। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এই ডিম ও মুরগির মাংসকে আরও সহজলভ্য করা। একই সঙ্গে সয়াবিনকে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে সুস্বাদু ও গ্রহণযোগ্য করে তোলা।”

ওয়াপসা-বিবি’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব মো. সিরাজুল হক স্বাগত বক্তব্যে বলেন, “পোল্ট্রি শিল্প শুধু খাদ্য নিরাপত্তা নয়, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতেও বিশেষ করে অবদান রাখছে। আজকের ফুড ফেস্টে তরুণ প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণ আমাদের ভবিষ্যৎকে আরও আশাবাদী করে তুলছে।”

ইউএসএসইসি-এর বাংলাদেশের কান্ট্রি লিড খবিবুর রহমান (কাঞ্চন) বলেন, “আমরা বিশ্বের ৯২টি দেশে কাজ করে আসছি। প্রোটিন নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে এবং মানুষকে বেশি প্রোটিন গ্রহণে উৎসাহিত করতে এই ধরনের কর্মশালার আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ বৈশ্বিক পরিসরে আমরা চাই, জনগণ যেন প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যের প্রতি বেশি আগ্রহী হয়।”

ইউএসএসইসি এর সাউথ এশিয়ার হিউম্যান ইউটিলাইজেশন রিজিওনাল হেড ক্রিস্টেল করদাহী ( MS, RD ) ভিডিও বার্তায় বলেন, “সয়া মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার। এতে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, যা শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক সবার জন্য প্রয়োজনীয়। বাংলাদেশে সয়া খাবারের ব্যবহার বাড়লে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে এবং খাদ্যাভ্যাস হবে আরও পুষ্টিকর।”

প্রথম দিনে প্রসেসড ও ফারদার প্রসেসড ফুড প্রদর্শনীর পাশাপাশি মুরগির মাংস ও সয়াবিন দিয়ে মোট ১০টি নতুন রেসিপি তৈরি করে সরাসরি প্রদর্শন করা হয়। ইন্টারন্যাশনাল কালিনারি ইনস্টিটিউট প্রধান ডেনিয়েল সি গোমেজের নেতৃত্বে এই রেসিপি তৈরিতে অংশ নেন ফ্রাঞ্চিজ গোমেজ ও ফাহমিদা নাজিম। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী প্রায় ৪০০ প্রশিক্ষণার্থী সরাসরি রান্নার কৌশল শিখেন এবং উৎসব শেষে বিপিআইসিসি ও ইউএসএসইসি’র পক্ষ থেকে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সনদপত্র প্রদান করা হবে। দর্শনার্থীরাও এসব রেসিপির স্বাদ গ্রহণের সুযোগ পান।

উল্লেখ্য, আগামীকাল বুধবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ২০ জন রন্ধনবিশেষজ্ঞ অংশ নেবেন রন্ধন প্রতিযোগিতায়। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে “আগামী দিনের পুষ্টি চাহিদা পূরণ, সাশ্রয়ীমূল্যে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ ও পুষ্টিকর খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা” শীর্ষক সেমিনার। সেখানে পুষ্টিবিদ, গবেষক, নীতিনির্ধারক ও শিল্প প্রতিনিধিরা মতামত তুলে ধরবেন।