রাঙ্গামাটিতে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে কফি চাষ

কফি একটি বিদেশী ফল হলেও বর্তমানে দেশের মাটি ও আবহাওয়ায় এর বাণবিজ্যিকভাবে চাষাবাদ শুরু হয়েছে। প্রত্রি বছর বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকার কফি আমদানি করতে হয়। দেশে কফির চাষ বৃদ্ধি সামনের দিনে আমদানি কমাতে অনেক খানি সহায়তা করবে বলে বিশেষজ্ঞরা জানান।

সরেজমিন রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে দেখা গেছে, গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে লাল-সবুজ রঙের কফি ফল। তবে খুব সহজেই আসেনি এ সফলতা। এখানকার বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ পাঁচ বছরের গবেষণার পর বিশ্বসেরা অ্যারাবিকা জাতের কফি চাষে সফলতা পেয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, তারা উদ্ভাবন করেছেন কফির দুটি নতুন জাত। যার নাম দেয়া হয়েছে বারি কফি-১ ও ২।

অ্যারাবিকা জাতের কফি পাহাড়ি টিলায় ছায়াযুক্ত স্থানে আবাদ করা যায়। ফলে এটি বিভিন্ন বাগানে সাথী ফসল হিসেবে আবাদ করা হয়। রোপণের ৩ থেকে ৪ বছর পর গাছে ফল আসা শুরু হয়। প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে ৪-৫ কেজি কফি ফল পাওয়া যায়। সে হিসাবে বাগানে প্রতি হেক্টরে ৭-৮ মেট্রিক টন কফি ফল উৎপাদন সম্ভব হবে বলে মনে করেন গবেষকরা।

বর্তমান বাজারে অ্যারাবিকা জাতের প্রতিকেজি কফির দাম প্রায় ১৮০০ টাকা। সে হিসাবে এক হেক্টরে উৎপাদিত কফির বাজারমূল্য প্রায় ১৪ লাখ টাকা।

কাপ্তাই রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘রাঙামাটির পাহাড়ি জমিতে কফির উৎপাদন ভালো হচ্ছে। আমরা গবেষণা করে এই সফলতা পেয়েছি। এই জাতের কফির জন্য ছায়াযুক্ত জায়গার প্রয়োজন। তাই যে কোনো বাগানেই এর চাষ করা যায়। আর সাথী ফসল হওয়ায় কফি আবাদে আলাদা খরচ ও পরিচর্যার তেমন প্রয়োজন হয় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘কফি বাগান সৃজনে স্থানীয় চাষিদের দেয়া হয়েছে প্রশিক্ষণ। ফলে চাষিদের মাঝে আগ্রহ বাড়ছে কফি চাষে।’

কৃষক রমিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার আগে শুধু আমবাগান ছিল। পরে রাইখালী কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নিয়ে বুঝতে পারলাম কফি চাষে বেশ লাভ। তাই আমবাগানে কফি চাষ করেছি। আমার গাছে ফল আসতে শুরু করেছে। আশা করি আগামী বছর ফল বিক্রি করতে পারব।’

আরিফ মিয়া বলেন, ‘আমার বাগানে ফল পেকেছে। কয়েকটি কোম্পানি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, তারা বাগান থেকে ফল নিয়ে যাবে।

রাঙামাটি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘রাঙামাটিতে বিশ্বের সেরা অ্যারাবিকা জাতের কফি আবাদে সফল হয়েছি। আমরা চাই পাহাড়ের প্রতিটি পকেটে যাতে কফির চাষ হয়। কৃষকরা যেভাবে কফি চাষে এগিয়ে আসছে তাতে ১০-১৫ বছরের মধ্যে আমাদের কফি আর আমদানি করতে হবে না, বরং রফতানি করা সম্ভব হবে।