বারমাসি বীজবিহীন লেবুর জাত বিনালেবু-২, হেক্টরপ্রতি ফলন ৫০ টন

লেবু বাংলাদেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং সমাদৃত ভিটামিন সি সমৃদ্ধ টক জাতীয় ফল। স্বাদ, গন্ধ, পুষ্টিমান এবং ঔষধি গুণাগুণের ভিত্তিতে স্বাদ, গন্ধ, পুষ্টিমান এবং ঔষধি গুণাগুণের ভিত্তিতে টক জাতীয় ফলের মধ্যে লেবু অন্যতম। লেবু প্রতিদিন খাওয়ার সাথে এবং অন্যান্য কাজে প্রয়োজনীয় এবং অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। গরমের দিনে তৃঞ্চা নিবারণের ক্ষেত্রে লেবুর ‘সরবত’ অদ্বিতীয় পানীয়। দেশের প্রায় সর্বত্রই লেবুর চাষ হয়। বাংলাদেশের সিলেট, মৌলভীবাজার, চট্রগ্রাম, পার্বত্য চট্রগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, বৃত্তর ময়মনসিংহ, ঢাকার ধামরাই এবং মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় প্রচুর পরিমাণে লেবু উৎপন্ন হয়। দেশে লেবুর অত্যাধিক চাহিদা এবং উন্নত জাতগুলো বছরব্যাপী উৎপাদিত হয় বিধায় লেবু এদেশে একটি সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদের পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে।

উদ্ভাবনের ইতিহাস


ভারতের একটি স্থানীয় জাত হতে বিনালেবু-২ এর জার্মপ্লাজমটি সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত জার্মপ্লাজমটি বিনা‘র প্রধান কাযালয়সহ উপকেন্দ্রসমূহে বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে CL-1 নামক কৌলিক সারিটি সনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে উক্ত সারিটি লেবু চাষ উপযোগী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রজনন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ফলন সন্তোষজনক হওয়ায় জাতীয় বীজ বোর্ড ২০২০ সালে সারিটিকে “বিনালেবু-২” নামে কৃষক পযায়ে চাষাবাদের জন্য অনুমোদন দেয়।

বৈশিষ্ট্যাবলী


• সারা বছর ফল দেয়।
• ফল ডিম্বাকৃতি থেকে সিলিন্ডাকৃতির, ফলের অগ্রভাগ সূচাঁলো, বহিরাবরণ মাঝারি মসৃণ এবং সুগন্ধিযুক্ত।
• পরিপক্ক অবস্থায় কিছু ফলের ৩ থেকে ৪ টা বীজ থাকে কিন্তু অধিকাংশই বীজ শূন্য।
• ফলের ওজন ১৩০-১৭০ গ্রাম।
• ফলের চামড়ার পুরুত্ব ০.৩৫-০.৪৫ সে.মি.।
• ফলে ভিটামিন সি এর পরিমান ৩০ মিলিগ্রাম/১০০ গ্রাম এবং রসের পরিমাণ খুব বেশী,৩১-৩৫%। রসে এসিডের পরিমাণ ৫.১%।
• কলমের চারা রোপনের সময় থেকে ১১ মাসের মধ্যে ১ম ফলন পাওয়া যায়।
• এক বছরের একটি গাছে ১২০-১৮০ টি ফল পাওয়া যায়।
• উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে এ জাতের ফলন ৩৫-৫০ টন/হেক্টর পাওয়া যায়।

প্রচলিত জাতের তুলনায় বৈশিষ্ট্য


বিনালেবু-২ লেবুর ফলন প্রচলিত জাতের তুলনায় বেশী এবং প্রায় সারা বছরব্যাপী লেবু পাওয়া যায়, লেবু সুগন্ধিযুক্ত।

জলবায়ু


লেবু উষ্ণ ও অবগ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলের ফসল। সাধারণত উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুতে কাগজী লেবু ভাল জন্মে। লেবু গাছের বৃদ্ধি ও ফল প্রদানের জন্য ২৫-৩০০ সে. তাপমাত্রা উপযোগী। তবে ২৯০ সে. তাপমাত্রায় ফলের পরিপক্কতা, গুণাগুণ ও খোসার রং ভালো হয়। লেবু চাষের জন্য ১২৫-১৮৫ মি.মি. বৃষ্টিপাত উপযুক্ত। তবে সুষমভাবে বৃষ্টিপাত হলে ৭০ মি.মি. বৃষ্টিপাত সন্তোষজনক বলে মনে করা হয়।

মাটি ও মাদা তৈরী


রোদযুক্ত সুনিষ্কাশিত উঁচু জমি অথবা পুকুর, রাস্তা বা পাহাড়ের ঢাল লেবু চাষের জন্য উত্তম। বাণিজ্যিকভাবে চাষ করতে হলে জমি গভীরভাবে চাষ দিয়ে আগাছা ভাল ভাবে পরিস্কার করে জমি তৈরি করতে হয়। বিনালেবু-২ সাধারনত হালকা দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটিতে ভালো হয়। তবে পানি জমে থাকেনা এবং অম্লীয় মাটি (পিএইচ ৫.৫-৭.০) এ লেবু চাষের জন্য উপযোগী। চারা রোপণ করার ১৫-২০ দিন পূর্বে ৩-৫ মিটার দুরত্বে ৮০ সে.মি. × ৮০ সে.মি. আকারের গর্ত করতে হবে। গর্তের উপরের মাটির সাথে প্রতি গর্তে ২০ কেজি গোবর অথবা জৈব সার, ৩০০ গ্রাম টিএসপি, ২৫০ গ্রাম এমওপি, ২০০ গ্রাম জিপসাম ও ৩০ গ্রাম বোরণ সার ভালভাবে মিশিয়ে গর্ত ভরাট করে তাতে পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখতে হবে। স্যাঁতস্যাতে, লবণাক্ত ও ক্ষারীয় মাটিতে লেবু ভালোহয় না। তবে মাটি অধিক অম্লীয় হলে হেক্টর প্রতি ১ টন অথবা গর্ত প্রতি ১.৫ কেজি ডলোচুন প্রয়োগ করতে হবে। উল্লিখিত রোপণ দূরত্ব হিসাবে প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ১১০০ টি চারা দরকার।

বংশ বিস্তার


কাটিং, গুটিকলম ও জোড়কলমের মাধ্যমে বিনালেবু-১ এর বংশবিস্তার করা যায়। কলম করার উপযুক্ত সময় এপ্রিল থেকে আগস্ট মাস পযন্ত। তবে এগ্রোসেড দ্বারা তৈরীকৃত পলি হাউজে কলম করলে অমৌসুমেও সফলভাবে কলম করা যায়। অযৌন পদ্ধতিসমূহের মধ্যে গুটি কলমের মাধ্যমে তৈরীকৃত চারা দ্রুত ফল দেয়।

রোপণ পদ্ধতি ও রোপণের সময়


লেবুর চারা সারি, বর্গাকার এবং ষড়ভূজ প্রণালীতে রোপণ করলে বাগানে আন্তঃপরিচযা ও ফল সংগ্রহ সহজ হয়। পাহাড়ী ঢালু জমিতে আড়াআড়ি ভাবে লাইন করে চারা রোপণ করলে মাটির ক্ষয়রোধ হয়। গুটি কলম, জোড় কলম ও কাটিং এর মাধ্যমে তৈরীকৃত চারা এপ্রিল থেকে শুরু করে সেপ্টেম্বর মাস পযন্ত লাগানো যায় তবে সেচ সুবিধা থাকেলে সারা বছর চারা লাগানো যায়। লক্ষ্য রাখতে হবে আবহাওয়া যেন শুষ্ক থাকে এবং গর্তে কোন পানি জমে না থাকে।

চারা/কলম রোপণ ও পরিচযা


মাদা তৈরী করার ১৫-২০ দিন পর চারা বা কলম রোপণ করতে হয়। গর্তের ঠিক মাঝখানে খাড়াভাবে চারা রোপণ করতে হবে এবং চারদিকের মাটি হাত দিয়ে চেপে ভালভাবে বসিয়ে দিতে হবে। তারপর চারাটি খুঁটির সাথে বেঁধে দিতে হবে এবং চারার গোড়ায় ঝাঁঝড়ি দিয়ে পানি দিতে হবে।

সারের পরিমাণ ও প্রয়োগ পদ্ধতি


চারা রোপণের পর ভাল ফলন পেতে হলে নিয়মিতভাবে সার প্রয়োগ করতে হবে। নিম্নে বয়স অনুপাতে প্রতি গাছের জন্য সারের পরিমান দেওয়া হলো:

উল্লেখিত পরিমাণ সার চারা রোপণের তিন মাস পর হতে সমান তিন কিস্তিতে গাছের গোড়ার চতুর্দিকে ৩০-৪০ সে.মি. জায়গা বাদ দিয়ে ছিটিয়ে কোদাল দ্বারা কুপিয়ে মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। পাহাড়ের ঢালে সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে ডিবলিং পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। দুপুর বেলায় যতটুকু জায়গায় গাছের ছায়া পড়ে ঠিক ততটুকু জায়গা পযন্ত সার ছিটিয়ে কোদাল দ্বারা কুপিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। প্রম কিস্তি মাঘ-ফাল্গুন (ফেব্রুয়ারি) মাসে যখন ফল ধরা শুরু হয়, দ্বিতীয় কিস্তি বর্ষার প্রারম্ভে বৈশাখ থেকে জ্যৈষ্ঠ (মে-জুন) মাসে, এবং তৃতীয় কিস্তি মধ্য ভাদ্র থেকে মধ্য কার্তিক (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর) মাসে প্রয়োগ করতে হবে। প্রতিবার সার প্রয়োগের পর পরই একটু হালকা পানি সেচ দিতে হবে যাতে করে সার মাটির সাথে মিশে যেতে পারে। তাছাড়া লেবু গাছের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রতি বছরই সারের পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি করতে হবে।

আগাছা দমন


গাছের পর্যাপ্ত বৃদ্ধি ও ফলনের জন্য সবসময় জমি পরিষ্কার বা আগাছামুক্ত রাখতে হবে। বিশেষ করে গাছের গোড়া থেকে চারদিকে ১ মিটার পর্যন্ত জায়গা সবসময় আগাছামুক্ত রাখতে হবে।

পানি ও সেচ নিষ্কাশন


চারা রোপণের পর ঝরণা দ্বারা বেশ কিছু দিন পর্যন্ত পানি সেচ দিতে হবে। সর্বোচ্চ ফলনের জন্য ফুল আসা ও ফলের বিকাশের সময় মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকা আবশ্যক। এ জন্য খরা মৌসুমে লেবু বাগানে সেচ দেওয়া প্রয়োজন। বর্ষাকালে গাছের গোড়ায় যাতে পানি জমতে না পারে সেজন্য বৃষ্টি ও সেচের অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

অঙ্গ ছাঁটাই


গাছের গোড়ার দিকে জল-শোষক শাখা বের হলেই তা কেটে ফেলতে হবে। এছাড়া গাছের ভিতরের দিকে যে সব ডাল পালা সূযের আলো পায় না সেসব দুর্বল ও রোগাক্রান্ত শাখা প্রশাখা নিয়মিত ছাঁটাই করে দিতে হবে। সাধারনত মধ্য ভাদ্র থেকে মধ্য কার্তিক (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর) পযন্ত অঙ্গ ছাঁটাই করার উপযুক্ত সময়। ছাঁটাই করার পর কর্তিত স্থানে বোর্দোপেস্টে/আলকাতরার প্রলেপ দিতে হবে যাতে ছত্রাক আক্রমণ না করতে পারে।

রোগ ও পোকা-মাকড় দমন


বিনালেবু-২ জাতটিতে রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ অনান্য জাতের তুলনায় অনেক কম। তবে সাধারনত আগামরা, স্ক্যাব, গ্রিনিং, গামসিস, ক্যাংকার রোগে আক্রান্ত হয়।

আগা মরা (ডাইব্যাক)


আক্রান্ত গাছের পাতা ঝরে যায় ও আগা থেকে ডালপালা শুকিয়ে নিচের দিকে আসতে থাকে এবং আস্তে আস্তে সম্পূর্ণ গাছটিই মরে যায়।
প্রতিকার: পরিচর্যার মাধ্যমে গাছকে সবল ও সতেজ রাখতে হবে। এ রোগ দমনের জন্য আক্রান্ত ডালের ২.৫ সেমি সবুজ অংশসহ কেটে কর্তিত অংশে বর্দোপেস্ট লাগাতে হবে। আক্রান্ত গাছে বছরে দু’একবার কপার সমৃদ্ধ ছত্রাকনাশক যেমন কুপ্রাভিট-৫০ ডব্লিউ পি অথবা কপার অক্সিক্লোরাইড প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

গামোসিস


এ রোগের আক্রমণে গাছের কান্ড, ডাল বাদামি রং এর হয়ে যায় ও ডালে লম্বালম্বি ফাটল দেখা দেয় এবং ফাটল থেকে আঠা বা কস বের হতে থাকে।

প্রতিকার:

আক্রান্ত ডাল কেটে ফেলে অথবা আক্রান্ত অংশ চেচে ফেলে আলকাতরা অথবা বোর্দোপেস্ট (১০০ গ্রাম কপার সালফেট বা তুঁতে, ১০০ গ্রাম চুন ১ লিটার পানিতে গুলিয়ে তৈরি করতে হবে) লাগাতে হবে। পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা করতে হবে এবং সেচের পানি যাতে গাছের গোড়ায় জমে না থাকে ও গাছের গোড়ার বাকল স্পর্শ করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

ক্যাংকার


এ রোগের আক্রমণে কচি পাতা, শাখা ও ফলে ধূসর বা বাদামি রংয়ের গুটি বসন্তের মত দাগ পড়ে। লিফ মাইনার পোকার দ্বারা এ রোগ সংক্রমিত হয় এবং ঘন ঘন বৃষ্টি হলে এ রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়।

প্রতিকার:


আক্রান্ত ডগা ও শাখা ছাঁটাই করতে হবে এবং কাটা অংশে আলকাতরা অথবা বর্দোপেস্ট এর প্রলেপ দিতে হবে। বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কপার জাতীয় ছত্রাকনাশক যেমন কুপ্রাভিট-৫০ ডব্লিউ পি অথবা কপার অক্সিক্লোরাইড প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ১৫ দিন অন্তর স্প্রে করতে হবে। এছাড়া যেহেতু লিফ মাইনার পোকার দ্বারা এ রোগ ছড়ায় সেহেতু ক্ষত সৃষ্টিকারী এই লিফ মাইনার পোকা দমন করার জন্য ইমিটাফ ২০ এসএল প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মি.লি. হারে মিশিয়ে ১৫ দিন অন্তর ২-৩ বার করে স্প্রে করতে হবে।

সাইট্রাস গ্রীনিং


এ রোগে লেবু গাছের পাতা সবুজাভ-হলুদ রং ধারণ করে। গাছের বৃদ্ধি থেমে যায় ও ফল ধারণ কমে যায় এবং আস্তে আস্তে সম্পূর্ণ গাছটিই মরে যায়। এ রোগ দমন করা বেশ কঠিন তবে ব্যাকট্রোল ব্যবহার করে এ রোগের মাত্রা কমিয়ে রাখা যায়।
এ ছাড়া অন্য কোন রোগ দেখা দিলে থিওভিট/ডাইথেন এম ৪৫/অটোস্টিন এর যে কোন একটি ছত্রাকনাশক ২গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

লেবু গাছে প্রায়ই সুরঙ্গ পোকা, প্রজাপতি, ছাতরাপোকা ও জাবপোকার আক্রমণ দেখা যায়। সেক্ষেত্রে ডিম ও কীড়াযুক্ত পাতা সংগ্রহ করে মাটির নিচে পুঁতে অথবা পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

পাতার সুড়ঙ্গ পোকা (সাইট্রাস লিফমাইনার)


এ পোকার ক্ষুদ্র কীড়া পাতার উপত্বকের ঠিক নিচে আঁকাবাঁকা সুড়ঙ্গ তৈরি করে পাতায় ক্ষতের সৃষ্টি করে এবং পাতার সবুজ অংশ খেয়ে ফেলে। এতে করে পাতা কুঁকড়ে বিবর্ণ হয়ে শুকিয়ে ঝরে যায় এবং গাছের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। এ পোকা ক্যাংকার রোগ ছড়ায়।

দমন ব্যবস্থা:


গাছে নতুন পাতা গজানোর সময় ইমিটাফ ২০ এসএল প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মি.লি. হারে মিশিয়ে ১০-১৫ দিন অন্তর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

সাইলিড বাগ


সাইলিড বাগ সকল প্রকার লেবু জাতীয় ফসলের একটি প্রধান সমস্যা। পূর্ণবয়স্ক সাইলিড বাগ সাধারণত ৪৫০ কোণে পাতার উপর বসে পাতার রস চুষে খায় এবং পাতার উল্টো পাশে ডিম পাড়ে। সাইলিড বাগ দ্বারা প্রধানত লেবু জাতীয় ফসলের গ্রীনিং রোগ ছড়ায়।
দমন ব্যবস্থা: এ পোকার আক্রমণ দেখা গেলে সাথে সাথেই ইমিডাক্লোপ্রিড গ্রুপের যে কোন কীটনাশক যেমন ইমিটাফ ২০ এসএল প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মি.লি. হারে মিশিয়ে ১৫ দিন অন্তর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

লেবুর প্রজাপতি পোকা


এ পোকার কীড়া পাতা খেয়ে ফেলে। এজন্য ফলন ও গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।

দমন ব্যবস্থা:


ডিম ও কীড়াযুক্ত পাতা সংগ্রহ করে মাটির নিচে পুঁতে বা পুড়ে ফেলতে হবে। সুমিথিয়ন ৫০ ইসি অথবা লিবাসিড ৫ ইসি প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলি হারে মিশিয়ে ১০-১৫ দিন পরপর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

পাতা মোড়ানো পোকা


আগস্ট থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এ পোকার আক্রমণ বেশি দেখা যায়। বয়স্ক ও চারা উভয় প্রকার গাছই এ পোকা দ্বারা আক্রান্ত হয়। পোকার কীড়াগুলি চারা ও বয়স্ক গাছের কঁচি পাতা মুড়িয়ে তার ভিতর অবস্থান করে এবং পাতা খেয়ে ক্ষতি সাধন করে।

দমন ব্যবস্থা:


এ পোকার আক্রমণ বেশি হলে সুমিথিয়ন ৫০ ইসি. প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি মিশিয়ে ১০-১৫ দিন পরপর ১-২ বার গাছে স্প্রে করতে হবে। এছাড়া ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসে প্রধানত গাছের নতুন কুঁড়ি এবং পাতায় জাব পোকার আক্রমণ দেখা যেতে পারে। এতে করে নতুন কুঁড়ি এবং পাতা কুঁকড়ে গিয়ে গাছের ক্ষতি হয়। এক্ষেত্রে আক্রমণ বেশি হলে ইমিটাফ ২০ এসএল ০.৫ মি.লি. হারে প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ১০-১৫ দিন অন্তর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

ফলন


উপযুক্ত পরিচযা পেলে বিনালেবু-২ এর ফলন ৩৫-৫০ টন/হে. পযন্ত হতে পারে।

ফল সংগ্রহ ও সংগ্রহোত্তর পরিচর্যা


সারা বছরই এ জাতের লেবু উৎপন্ন হয় তবে ফুল আসার প্রধান মৌসুম হল জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি মাস এবং তা থেকে এপ্রিল হতে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ফল আহরণ করা হয়। আবার অনেক সময় জুন-জুলাই মাসেও কিছু ফুল আসে এবং তা থেকে সেপ্টেম্বর হতে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ফল আহরণ করা যায়। ফলের ত্বক তুলনামূলকভাবে মসৃণ ও ফলের রং গাঢ় সবুজ হতে কিছুটা হালকা হয়ে আসলে ফল সংগ্রহ করতে হবে। ফল সংগ্রহ করার পর প্রথমে বাছাই এর মাধ্যমে ভাল ও ত্রুটিপূর্ণ (বাজারজাতকরণের অনুপযোগী) ফলগুলো আলাদা করতে হবে। তারপর ভাল ফলগুলো গ্রেডিং এর মাধ্যমে বিভিন্ন সাইজ অনুপাতে ভাগ করে বাজারজাত করতে হবে।