কৃষিবিদ দীন মোহাম্মদ দীনু, বাকৃবি: বেসরকারি ক্ষুদ্রঋণদানকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠাণ পিদিম ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার ঝিনাইগাতী সরকারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ) পুষ্টি সচেতনতা ও শিখন কার্যক্রম শীর্ষক দিনব্যাপী একটি সচেতনতা বৃদ্ধিমুলক অনুষ্ঠাণের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠাণের মধ্যে ছিল পুষ্টি সচেতনতা ও শিখন কার্যক্রম শীর্ষক বর্ণ্যাঢ্য র্যালি, আলোচনা অনুষ্ঠান,পুষ্টি মেলা, পুষ্টি বিষয়ক মঞ্চ নাটক, পটগান-জারিগান, কবিতা আবৃত্তি, কুইজ প্রতিযোগিতা, পুষ্টিবিষয়ক রান্না এবং স্টলে পুষ্টি বিষয়ক তথ্য কর্নার, বিভিন্ন শাক-সব্জি ও ফলের প্রদর্শনী ইত্যাদি। এউপলক্ষে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে সকাল ১০.০০ ঘটিকায় উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোঃ আশরাফুল আলম রাসেল এর উপস্থিতিতে একটি বর্ন্যাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে অনুষ্ঠান স্থলে এসে শেষ হয়। পরে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আশরাফুল আলম রাসেল।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থার উপ-নির্বাহী পরিচালক জনাব মোঃ শফিউল্লাহ শোভন। আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সিনিয়র পরিচালক (ইন্টারন্যাল কন্ট্রোল এন্ড প্রজেক্ট) জনাব মোঃ হুমায়ুন কবীর সেলিম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জনাব ডা. রাজীব সাহা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জনাব মোঃ ফরহান হোসেন, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর পুষ্টি বিশেষজ্ঞ জনাব কফিল কুমার পাল প্রমূখ।
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর আর্থিক এবং কারিগরী সহায়তায় পিদিম ফাউন্ডেশন,কর্তৃক বাস্তবায়িত উচ্চ মুল্যের ফল-ফসলের জাত সম্প্রসারণ ও বাজারজাতকরণ শীর্ষক ভ্যালু চেইন উপ-প্রকল্পটি ফেব্রুয়ারি,২০২২ সাল হতে ঝিনাইগাতী ও শেরপুর সদর উপজেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষী পরিবার ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নতুন নতুন নিরাপদ পণ্য উৎপাদন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিবেশ, নিরাপদ পণ্য ও পুষ্টিমান , জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়কে বিবেচনায় রেখে উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থা সৃষ্টি, নারী ও তরুনদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি,আয় বৃদ্ধি এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে উপ-প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে আসছে।
পিকেএসএফ কর্তৃক বাস্তবায়িত রুরাল মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ ট্রান্সফরমেশন প্রজেক্ট (আরএমটিপি) শীর্ষক প্রকল্পটি সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সালে শেষ হবে।
প্রকল্পের আওতায় ৬০০০ জন উপকারভোগীকে পুষ্টি, জলবায়ু, পরিবেশগত ও সামাজিক বিষয়, ক্ষুদ্র ঋন গ্রহীতা ও উৎপাদনকারী সংগঠনের সদস্যদের আর্থিক জ্ঞান বিষয়, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও উৎপাদনকারী সমিতির সদস্যদের ব্যবসা সংক্রান্ত , কৃষক দলের জৈব পদ্ধতি অবলম্বনে ফল ও ফসল উৎপাদন বিষয়, কৃষক দলের খামার ব্যবস্থাপনা বিষয়ক উন্নততর প্রশিক্ষণ ণ প্রদান, বিভিন্ন উচ্চমূল্যের ফলের প্রদর্শণী প্লট স্থাপণসহ নানা সুবিধা প্রদান করা হয়। উচ্চমূল্যের ফলের প্রদর্শণী প্লট দেখে প্রকল্প এলাকার অনেকেই এধরনের উচ্চ মানের ফল চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন এবং আর্থিকভাবে লাভবান ও পারিবারিক পুষ্টি উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে ।