ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘১৩তম আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো’। বিশ্বের ১৭টি দেশের দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠান এ শো’তে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও পণ্যের পসরা নিয়ে হাজির হবেন- যা বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পকে আরও একধাপ এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। এ মেলা নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে এবং তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমে বর্ধিত জনসংখ্যার ডিম ও মুরগির মাংসের চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।
বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) অডিটোরিয়ামে “বিল্ডিং এ রেজিলিয়েন্ট পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রি ইন বাংলাদেশ; ইভোলুশন, চ্যালেঞ্জেস এন্ড স্ট্র্যাটেজি” শীর্ষক সেমিনারে এ তথ্য জানায় ‘ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স এসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা’ (ওয়াপসা-বিবি) এবং ‘বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল’ (বিপিআইসিসি)। ‘ফিশারিজ এন্ড লাইভস্টক জার্নালিষ্ট ফোরাম’ (এফএলজেএফ) সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে জানানো হয়, ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে “আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি সেমিনার এবং ২০-২২ ফেব্রুয়ারি পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশীপ এক্সিবিজশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে ‘১৩তম আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো’। মেলা সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। কুড়িল বিশ^রোডের তিনশ’ ফিট থেকে সারাদিন ফ্রি শাটল বাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আসন্ন রমজানে ডিম ও মুরগির দাম সহনশীল থাকবে বলে সেমিনারে বক্তারা জানান।
ওয়াপসা-বাংলাদেশ শাখা’র সভাপতি মসিউর রহমান বলেন- ২০৫০ সালকে সামনে রেখে একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে দেশীয় পোল্ট্রি শিল্প। তিনি বলেন- শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। পোল্ট্রি শিল্প অসংখ্য বেকারের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। আগামী ১০ বছরে এ খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পোল্ট্রি শিল্প মূলত:ই গ্রামাঞ্চলে গড়ে উঠেছে ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে গ্রাম থেকে শহরমুখী মানুষের ঢল কমবে। জনাব মসিউর বলেন- স্বল্পতম সময়ে মানসম্মত প্রোটিন উৎপাদন করতে হলে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, খামার ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন ঘটাতে হবে এবং গবেষণা কাজে ব্যয় বৃদ্ধি করতে হবে। এজন্য সরকারকে পোল্ট্রি শিল্পের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। তিনি বলেন- জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব দ্রুত গতিতে বিস্তার লাভ করছে। নতুন কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব আমাদের ২০-৩০ বছর পিছিয়ে দিতে পারে। তাই রোগ-জীবানুর প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় আরও বেশি সচেতন হতে হবে এবং নিজ দেশেই প্রতিষেধক টিকা উৎপাদন করতে হবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মসিউর বলেন, আসন্ন রমজানে ডিম-মুরগির দাম বাড়ার কোন সম্ভাবনা নেই। সরকারের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) বরাবরের মতো এবারও রমজান মাস জুড়ে রাজধানী ঢাকায় খামার রেটে ডিম-মুরগি বিক্রি করবে।
সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক, ওয়াপসা-বিবি’র সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব কুমার প্রামাণিক বলেন- স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে ডিমের মাথাপিছু বার্ষিক কনজাম্পশন ছিল প্রায় ২০টি এবং মুরগির মাংসের ১ কেজি। ২০২৪ সালে তা হয়েছে যথাক্রমে ১৩০টি এবং ১০ কেজি। পোল্ট্রি শিল্প ছাড়া এ প্রবৃদ্ধি সম্ভব ছিল না। তিনি বলেন, ২০২০ সালের পর ফিডের উৎপাদন বেশ খানিকটা হ্রাস পেয়েছিল। গত বছর উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে। আশাকরা যায় চলতি বছরে আরও বাড়বে অর্থাৎ ডিম-মুরগির উৎপাদনও বাড়বে। বিশে^র বেশিরভাগ দেশের তুলনায় বর্তমানে বাংলাদেশে ডিম ও মুরগির দাম কম। মুরগি পালনে কার্বন নিঃসরণও তুলনামূলকভাবে অনেক কম। জনাব বিপ্লব বলেন, সাসটেইনেবিলিটি অর্জনের পথে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলো সমাধানে আন্তরিক হতে হবে।
ব্রিডার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (বিএবি) -এর সভাপতি মাহাবুবুর রহমান বলেন- বিগত সরকারের আমলে খামারিদের লোকসান হলেও তা জোর গলায় বলার মত পরিস্থিতি ছিলনা। সে সময় যারাই পোল্ট্রি এসোসিয়েশনের নেতৃত্বে সামনে এসেছিলেন- তাঁদের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এখনও অনেকগুলো মামলা নিস্পত্তি হয়নি। এর রকম পরিস্থিতি আমরা আর দেখতে চাই না। মাহাবুব বলেন- সরকার ডিমের খুচরা মূল্য ১১.৮৭ টাকা নির্ধারণ করেছেন কিন্তু বাজারে বিক্রি হচ্ছে মাত্র সাড়ে ১০ টাকায়। সামনের রমজানে দাম আরও কমার আশংকা রয়েছে। এ লোকসান সামাল দেয়া তৃণমূল খামারিদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তাঁদের সাহায্যার্থে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসতে হবে।
ফিড ইন্ডাষ্ট্রিজ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, এবারের শো’র প্রতিপাদ্য হচ্ছে- “সাসটেইনেবল পোল্ট্রি ফর ইমার্জিং বাংলাদেশ”। খামারি ও উদ্যোক্তাদের ঝরে পড়া ঠেকাতে হবে, পোল্ট্রি শিল্পকে টেকসই ও মজবুত ভিতের উপর দাঁড় করাতে হবে।
এফএলজেএফ সভাপতি মুন্না রায়হানের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন ডিবিসি নিউজের সম্পাদক লোটন একরাম, আরটিভির হেড অব নিউজ ইলিয়াস হোসেন ও এফএলজেএফ এর সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান।



